Open Modal

Open Modal

BAY LEAVES (তেজপাতা)

30.00৳
Product Type: Bay Leaves

The original picture is shown

In stock
+ -
Vendor: Golden Food

তেজপাতাঃ- 

তরকারি বা মাংস রান্নায় তেজপাতা না হলে চলেই না। বলা হয়, এর চমৎকার গন্ধ তরকারি, মাংস বা বিভিন্ন খাবারে আনে বাড়তি স্বাদ। এমনকি তেজপাতার চা আমাদের শরীরকে একটা ঝরঝরে অনুভূতি দেয়। তবে তেজপাতা কি কেবল সুগন্ধই আনে? খাদ্যগুণে কতটা সমৃদ্ধ এই পাতা?

তেজপাতা সুগন্ধি মসলা। কাঁচা পাতার রং সবুজ। শুকনো পাতার রং বাদামি। মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এই তেজপাতায় ঔষধি গুণ রয়েছে। ভিটামিন ‘ই’ ও ‘সি’-সমৃদ্ধ এই মসলায় রয়েছে ফলিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান।

তেজপাতার ঔষধি গুণ ও উপকারিতাঃ- 

হজমশক্তি বাড়ায়ঃ 

মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ব্যবস্থায় বেশ প্রভাব ফেলে তেজপাতা। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয় এবং শরীরকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। তেজপাতায় রয়েছে এমন জৈব যৌগ, যা পেটের অসুখ সারাতে সাহায্য করে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার ত্রুটিজনিত সমস্যায় তেজপাতা খুব কার্যকর। অনেক সময় শরীর জটিল প্রোটিন সহজে হজম করতে পারে না, তেজপাতা তা হজমে সাহায্য করে।

হৃদ্‌যন্ত্রবান্ধবঃ

তেজপাতায় জৈব যৌগের মধ্যে রয়েছে রুটিন ও ক্যাফেক অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত তেজপাতা খাওয়া বা তেজপাতার পানি পান হার্টকে সুস্থ রাখে। এতে রয়েছে রুটিন, স্যালিসাইলেটস, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস; যা হার্টকে সবল রাখে। ৩ গ্রাম তেজপাতা, ৩-৪ মি.লি. গোলাপজল ও ৩০০ মি.লি. পানি গরম করে ৭৫ মি.লি. করতে হবে। এই মিশ্রণ পান করতে হবে নিয়মিত।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ

এক গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ৩০ দিন ১ থেকে ৩ গ্রাম তেজপাতা গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টরেলের পরিমাণ কমে। তেজপাতায় থাকা উপাদান ইনসুলিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তেজপাতার পানি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে; যা আমাদের শরীরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইনসুলিন তৈরি করতে সাহায্য করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়ঃ

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও বলিরেখা দূর করতে তেজপাতার জল খুব উপকারী। ৫টি তেজপাতার সাথে ২ গ্লাস পানি গরম করে নিতে হবে। তারপর পানিটা একটি বড় পাত্রে নিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ভাপটা নিতে হবে। এটি ত্বকের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।

চাপ কমাতে সাহায্য করেঃ

তেজপাতার মধ্যে রয়েছে লিনালুল নামক উপাদান। এটি উৎকণ্ঠা কাটাতে, শান্ত থাকতে ও হতাশা দূর করতে সহায়তা করে।

ব্যথা উপশমে কার্যকরঃ

তেজপাতার অন্যতম গুণ হলো এটি প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি যেকোনো ধরনের মাথাব্যথা উপশমে কার্যকরী। তেজপাতায় রয়েছে ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট উপাদান, যা প্রদাহ দূর করে। শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা হলে তেজপাতার তেল দিয়ে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং ব্যথার উপশম হয়।

ক্ষত নিরাময় করেঃ

বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিরাময়ে তেজপাতা অতুলনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।

চুলের সমস্যা দূর করেঃ

চুলে শ্যাম্পু করার পর তেজপাতার পানি ব্যবহার করুন। কয়েকটি তেজপাতা দিয়ে পানি চুলায় গরম করতে হবে। ঠান্ডা হওয়ার পর এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে চুলের খুশকি দূর হয়। একইসঙ্গে চুল পড়াও ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

উকুন দূর করেঃ

৫০ গ্রাম তেজপাতা এবং ৪০০ মি.লি. পানি একসাথে করে চুলায় গরম করতে হবে, যতক্ষণ না কমে ১০০ মি.লি. পানি হয়। তারপর ঠান্ডা করে মাথার তালুতে লাগাতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা রাখার পরে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ 

ক্যাফেয়িক এসিড, কুয়েরসেটিন, ইউগানল, ক্যাটেচিন রয়েছে তেজপাতায়। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কাশি দূর করেঃ 

২-৩টি তেজপাতা দিয়ে পানি গরম করে ১০ মিনিটের জন্যে রেখে ঠান্ডা করতে হবে। সেই পানিতে কাপড় ভিজিয়ে সেই কাপড় বুকের উপর রেখে ভাপ দিলে তা জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি দূর করতে সাহায্য করে।


অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করেঃ 

নিয়মিত তেজপাতা চিবিয়ে খেলে তা পিরিয়ডকে নিয়মিত ও স্বাভাবিক রাখে।

দাঁত সাদা করেঃ 

দাঁতকে সাদা ও সুস্থ রাখতে তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার। কফি, চা, তামাক, অ্যালকোহল- এসবের কারণে যদি দাঁত হলুদ হয়ে যায়, তাহলে শুকনো তেজপাতা ও শুকনো কমলার খোসা গুঁড়ো করে অল্প পানির সাথে মিশিয়ে টুথপেস্ট হিসেবে ব্যবহার করবেন। এতে দাঁত সাদা ও ঝকঝকে হয়।

কিডনি রোগ দূর করেঃ 

কিডনিতে ইনফেকশন বা পাথর হলেও তেজপাতা তা দূর করতে সাহায্য করে। ৫ গ্রাম তেজপাতা ও ২০০ মি.লি. পানি একসাথে গরম করে ৫০ মি.লি. হলে ঠান্ডা করে পান করুন।

অতিরিক্ত ওজন কমায়ঃ

৫ গ্রাম তেজপাতা, এক টুকরো আদা, ২০০ মি.লি. পানি ফুটিয়ে ১/৪ ভাগ করে এর সাথে মধু মিশিয়ে পান করতে হবে দিনে দুইবার।

সতর্কতাঃ-

তেজপাতা গর্ভবতী মা ও সদ্য মায়েদের প্রস্রাবের ইনফেকশন ঘটাতে পারে। এছাড়া সার্জারি রোগীদের দুই সপ্তাহ তেজপাতা খেতে নিষেধ করা হয় কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Write your own review Close Review Form
  • Only registered users can write reviews
*
*
Bad
Excellent